X

"দেশে আকাল এলেও তোমার ঘরে ভাতের অভাব হবে না"

April 17, 2011 by Ripon Majumder   Comments (0)

,

social

বাড়ীতে কোন অনুষ্ঠান হলে আমার এক বন্ধু তার পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে তুলনামূলক গরীব মহিলাদের দাওয়াত করে খাওয়ান। মহিলা বলতে শুধুমাত্র মহিলা।

একমাত্র রান্না ছাড়া কাজটি তিনি নিজের হাতে করেন। নিজে বাজার করেন। নিজে খাবার পরিবেশন করেন।

কেন তিনি একাজ করেন- অর্থাৎ কেন তিনি শুধু মহিলাদেরই খাওয়ান, তা জানতে চেয়ে তার ব্যতিক্রমী এক লজিক জানলাম।

লজিক হচ্ছে, তিনি দরিদ্র এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত এমন সব মহিলাদের দাওয়াত করেন, গোটা জীবনে যাদের পাতে মাছের পেটি/ মাছের মাথা বা মাংসের ভালো টুকরোগুলো সাধারণত পড়ে না।

মাছের পেটিগুলো ছোটবেলায় মা তার বাপ ভাইদের পাতে দিয়ে থাকেন। কন্যাসন্তানের ভাগে সাধারণতঃ ছোট টুকরো-টাকরা বা মাছের লেজটাই পড়ে।

সেই কন্যাই বিয়ের পর স্বামী- পূত্র সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাতে দিয়ে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে থাকেন। নিজের এবং নিজের মেয়ের জন্য রাখেন মাছের লেজ বা ভেঙে যাওয়া অংশ। নিজের জন্য কখনো বা ঝোল ছাড়া কিছু থাকেই না।

তো আমার ঐ বন্ধু বেছে বেছে মাছ-মাংসের বড়ো টুকরোগুলো দিয়ে মহিলাদের খাবার পরিবেশন করেন। তার পরিবেশনে এতোটাই আন্তরিকতা থাকে যে, আবেগে দাওয়াতীদের কারও কারও চোখে পানি চলে আসে।

খেয়ে ফিরে যেতে যেতে কেউ বা বলেন, "বাবা, গত বছর খাইছিলাম বাবা তোমার হাতে- এখনও মনে আছে। দেশে আকাল আইলেও তোমার ঘরে কোনদিন ভাতের অভাব হইবো না।"

This is a test transmission -- Bangladesh Online Radio.