X

Ripon Majumder's blog

মায়ের কাছে মামাবাড়ীর গল্প

May 18, 2011 by Ripon Majumder   Comments (0)

social

আপনি জানেন কি?

আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ল্যাংকেস্টার কাউন্টিতে একটি জায়গা আছে যেখানে বিদ্যুৎ নাই, লোকজন হারিকেন জ্বালিয়ে থাকে; ফ্যান নাই, হাতপাখা ব্যবহার করে। আধুনিক যন্ত্রচালিত কোনপ্রকার গাড়ী ব্যবহার করে না। প্রত্যেক পরিবারেরই একটি করে ঘোড়া-চালিত ওয়াগন আছে।

তাদের পোশাক পরিচ্ছদ
তারা নিজেদের ঘরে বানানো প্লেইন ফেব্রিক্সের পোশাক পরিধান করে । মেয়েরা সাধারণত তাদের চুল কাটে না। ছেলেদের গোফ রাখা নিষেধ এবং বিয়ের পর সাধারণত দাড়ি বড় করে। ছেলেদের টাই, বেল্ট পরাও নিষেধ।

পেশা
তাদের প্রধান পেশা কৃষি। এছাড়া কেউ কেউ কার্পেন্টার, কামার, কুমার। এরা নিজেদের ফসলাদি নিজেরা জন্মায়। অতিরিক্ত দ্রব্যাদি সুপারমার্কেটে (ডিপার্টমেন্টাল স্টোর) বিক্রী করে। ঘোড়া তাদের পারিবারিক ট্রেডমার্ক। ফসল ফলানো থেকে শুরু করে যাতায়াতের কাজে ঘোড়াই ব্যবহার করা হয়।

বিদ্যুৎ বিমুখ
এরা আধুনিক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না। কেরোসিন অথবা গ্যাসবাতি ব্যবহার করে রাতে ঘরে আলো তৈরী করে, রান্নার কাজে ব্যবহার করে কাঠ, কেরোসিন অথবা প্রোপেন। শীতের সময়ে কাঠ অথবা কয়লা জ্বালিয়ে ঘর গরম রাখে।
আমাদের মা- খালাদের মতো এক মাথা থেকে আরেক মাথায় রশিতে করে কাপড় শুকায়। ওয়াশার-ড্রাইয়ার ব্যবহার করে না।

শিক্ষাদীক্ষা
তাদের জীবন যাপনের এই চ্যাপ্টারটা বেশ মজার।
তারা নিরক্ষর নয়, শিক্ষায় বিশ্বাসী তবে সেটা শুধুমাত্র অষ্টম গ্রেড পর্যন্ত। এক রুমের স্কুলঘরে লেখাপড়া করে। সেখানে পড়া, লেখা, বানান করা, ভূগোল, অঙ্ক এবং ইংলিশ ও জার্মান ভাষা শেখানো হয়। প্রতিটি স্কুলে গড়ে মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থী থাকে। বাড়ীঘরের মতো স্কুলগুলোও তারা নিজেরাই তৈরী করে। স্কুল তৈরী করা হয় সকলের জন্য হাঁটা-দূরত্বে। সেখানে শুধু ম্যাডামরাই পড়ায়। ম্যাডামকে বয়সে যুবা এবং অবিবাহিত হতে হবে। শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতার সমন্বয়ে গঠিত লোকাল স্কুল বোর্ড” শিক্ষক নির্বাচন করে।
যাই হোক, অষ্টম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ এটুকু পড়াশোনাই তারা জীবন চলার জন্য যথেষ্ট মনে করে। তারা মনে করে বেশী পড়াশুনা করলে জীবন জটিল হয়ে যায়, লোকজনদের দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়তে হয়। তারা মনে করে জীবনযাপনের জন্য ন্যুনতম যতটুকু শিক্ষার দরকার- এর অর্ধেকটা মাত্র আসে শ্রেণীকক্ষের শিক্ষা থেকে। বাকী অর্ধেক আসে চাষাবাদ ও বাড়ীঘর তৈরীর হাতে কলমে কাজ থেকে। তাই অষ্টম গ্রেড পর্যন্ত পড়াশোনার পর তাদের ভোকেশনাল স্কুলিং শুরু হয়ে যায়। যাকে বলা হয়, হাতে-কলমে শিক্ষা। সপ্তাহে একদিন তারা বাপ-দাদার চাষাবাদ শেখে। পৈত্রিক ব্যবসা থাকলে ব্যবসা শিখে। পাশাপাশি মেয়েরাও তাদের মা-খালাদের নিকট থেকে গৃহস্থালির কাজ শিখতে থাকে। অর্থাৎ ছেলেদের ট্যাগ করে দেয়া হয় বাপ-দাদার সাথে। মেয়েদের ট্যাগ করা হয় মা-খালাদের সাথে।
প্রতি পরিবারে গড়ে ৭/৮ সন্তানের প্রত্যেককেই অষ্টম গ্রেড পার হয়ে যাওয়ার পর পরিবারের অর্থনীতিতে বাধ্যতামূলকভাবে কোন না কোন অবদান রাখতে হয়। পরোক্ষ কোন অবদান নয়, প্রত্যক্ষ অবদান। আমাদের মতো আড্ডা মারার সুযোগ নেই।
আমেরিকার সুপ্রীম কোর্ট ১৯৭২ সালে এ শিক্ষাব্যবস্থা অনুমোদন করেছে এবং বলে দিয়েছে, উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য তাদের উপর জোর খাটানো যাবে না।

ধর্মকর্ম
আমিষরা ধার্মিক। বাইরের বিশ্ব থেকে আলাদা হয়ে সহজ-সরল জীবন যাপন করে, তারা আত্ম-নির্ভরশীল তাই সরকারের কাছ থেকে কোনরূপ সাহায্য নেয় না।

অহিংস
তারা কোনরকম ভায়োলেন্সে বিশ্বাসী নয়, তাই তারা কখনো মিলিটারীতেও যায় না।

বিয়ে শাদী
তারা ১৬ বছর হবার পর থেকেই নিজেদের জন্য পাত্র-পাত্রী খোঁজা শুরু করে। ২০ বছর বা তার আগেই তারা বিয়ে করে ফেলে।
তাদের বিয়েতে দীর্ঘমেয়াদী অনুষ্ঠান হয়, আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত করে, বিশাল ভোজের ব্যবস্থা হয়। তবে বিয়ের কন্যা কোনরকম আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক পরে না, কোনরূপ মেকাপ বা অলংকার পরে না বা কোনরূপ ফটোগ্রাফীর ব্যবস্থাও নেই।
পোষাকে কোনপ্রকার বোতাম থাকবে না, বোতামের পরিবর্তে ব্যবহৃত হবে হুক্‌। “প্লেইন লাইফষ্টাইল” বলে কথা।

বংশবিস্তার
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, আমিষরা পরিবার পরিকল্পনায় বিশ্বাসী নয়। প্রতিটা পরিবারের গড়ে কমপক্ষে সাতজন ছেলেমেয়ে থাকে।

অসুখ বিসুখ
একই গোত্রে বিয়ে শাদী ও বংশ বিস্তার সীমাবদ্ধ বলে তাদের মধ্যে জেনেটিক অসুখ-বিসুখের প্রকোপ বেশি।

অন্যান্য
নিজেদেরকে ডিসপ্লে করতে পছন্দ করে না। অন্যরা তাদের ফটো তুলুক- তা চায় না। ট্যুরিষ্টরাও সৌজন্যবোধের খাতিরে তাদের ফটো তুলে না। এ প্রসঙ্গে ইংরেজিতে চমৎকার একটা কথা দেখলাম, They want to be remembered by the lives they lived and the examples they left, not by physical appearance. বাংলা করলে দাঁড়ায় অনেকটা এরকম, নির্দিষ্ট কারও শারীরিক উপস্থিতির মাধ্যমে নয়, সাধারণ জীবনযাপন দিয়ে তারা অতি সাধারণ দর্শন রেখে যায়।
নিজেদের চার্চ, স্কুল ঘর বা বাস করার ঘর-দুয়ার নিজেরাই তৈরী করে। তৈরী করার সময় পরিবারের/ কম্যুনিটির সকল সদস্য একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করে।
স্বয়ংসম্পূর্ণতার জন্য তারা গর্ববোধ করে। সরকারের নিকট থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বা বেকার ভাতা তথা কোনরূপ ভাতা গ্রহণ করে না। ঝড় বা অগ্নি দূর্ঘটনা অর্থাৎ প্রাকৃতিক কোন দূর্যোগে ব্যবহারের জন্য তাদের নিজস্ব চার্চে তারা নিজস্ব ফান্ড গড়ে তোলে। অথচ অন্যান্য নাগরিকদের মতো তারা সরকারকে সকল কর পরিশোধ করে।

আবাস নিবাস
যেখানে তারা বাস করে সেখানটাকে আমিষ কান্ট্রি/আমিষ ভিলেজ (Amish Country) বলা হয় এবং গোত্রের লোকজনদের বলা হয় আমিষ পিপল্‌।
আমিষদের উৎপত্তি ইউরোপে অ্যানাব্যাপটিস্ট (Anabaptists) গোত্র থেকে। ১৬০০ সালের দিকে জ্যাকব আম্মান (Jacob Ammann) নামে এক অ্যানাব্যাপটিস্ট তার কিছু অনুসারী নিয়ে নিজ গোত্র থেকে আলাদা হয়ে আমিষ গোত্র শুরু করেন।
আমিষদের প্রথম দলটি আমেরিকার পেনসিলভেনিয়ার ল্যাংকেস্টার কাউন্টিতে আসে ১৭৩০ সালে। বর্তমানে আমিষ লোকজন ওহাইও, ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, কানাডার ওন্টারিওতে ছড়িয়ে পড়লেও বিশাল একটি (অনেকের মতে বেশীরভাগ) দল ল্যাংকেস্টার কাউন্টিতেই বাস করে ।

সমগ্র নর্থ আমেরিকাতে আমিষদের সংখ্যা হবে প্রায় ২৫০,০০০।

"দেশে আকাল এলেও তোমার ঘরে ভাতের অভাব হবে না"

April 17, 2011 by Ripon Majumder   Comments (0)

,

social

বাড়ীতে কোন অনুষ্ঠান হলে আমার এক বন্ধু তার পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে তুলনামূলক গরীব মহিলাদের দাওয়াত করে খাওয়ান। মহিলা বলতে শুধুমাত্র মহিলা।

একমাত্র রান্না ছাড়া কাজটি তিনি নিজের হাতে করেন। নিজে বাজার করেন। নিজে খাবার পরিবেশন করেন।

কেন তিনি একাজ করেন- অর্থাৎ কেন তিনি শুধু মহিলাদেরই খাওয়ান, তা জানতে চেয়ে তার ব্যতিক্রমী এক লজিক জানলাম।

লজিক হচ্ছে, তিনি দরিদ্র এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত এমন সব মহিলাদের দাওয়াত করেন, গোটা জীবনে যাদের পাতে মাছের পেটি/ মাছের মাথা বা মাংসের ভালো টুকরোগুলো সাধারণত পড়ে না।

মাছের পেটিগুলো ছোটবেলায় মা তার বাপ ভাইদের পাতে দিয়ে থাকেন। কন্যাসন্তানের ভাগে সাধারণতঃ ছোট টুকরো-টাকরা বা মাছের লেজটাই পড়ে।

সেই কন্যাই বিয়ের পর স্বামী- পূত্র সন্তান এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের পাতে দিয়ে এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করে থাকেন। নিজের এবং নিজের মেয়ের জন্য রাখেন মাছের লেজ বা ভেঙে যাওয়া অংশ। নিজের জন্য কখনো বা ঝোল ছাড়া কিছু থাকেই না।

তো আমার ঐ বন্ধু বেছে বেছে মাছ-মাংসের বড়ো টুকরোগুলো দিয়ে মহিলাদের খাবার পরিবেশন করেন। তার পরিবেশনে এতোটাই আন্তরিকতা থাকে যে, আবেগে দাওয়াতীদের কারও কারও চোখে পানি চলে আসে।

খেয়ে ফিরে যেতে যেতে কেউ বা বলেন, "বাবা, গত বছর খাইছিলাম বাবা তোমার হাতে- এখনও মনে আছে। দেশে আকাল আইলেও তোমার ঘরে কোনদিন ভাতের অভাব হইবো না।"

কোক বাজিকর

February 27, 2011 by Ripon Majumder   Comments (0)

, , ,

fun

আমাদের মেসে একজন কোক বাজিকর রয়েছেন। উত্তেজনাপূর্ণ খেলায় তিনি কোকের ব্যবস্থা করে থাকেন। তাই যথারীতি আজকের এ খেলার (ভারত-ইংল্যান্ড) উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন কয়েকটি কোক নিয়ে আসা হয় মেসে।

উত্তেজনার মধ্যেই সবগুলো কোক খাওয়া শেষ। কথা ছিল, ইংল্যান্ড বা ভারত- যে দলই জয়লাভ করুক, কোকের দাম পরিশোধ করবে সেই দলের সমর্থক।

আজ ম্যাচ টাই হওয়ায় কোন দলের সমর্থকই কোকের দাম দিচ্ছে না। দাম দিতে হচ্ছে সেই বাজিকরকে।

তাই দেখে আনন্দের আর সীমা নেই। দুদলের সমর্থক মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে। বাজীকর হয়ে পড়েছে একঘরে।

'খালি' নয় 'ভাইয়া'

February 6, 2011 by Ripon Majumder   Comments (0)

,

social

অই, যাইবো?
অই খালি, যাবি?
অই খাড়া, লইয়া যা।
কোন সুরেই কাজ হচ্ছে না।

খালি রিক্সা পাচ্ছেন কিন্তু যাচ্ছে না।
ঘাড় যেন বিয়ারিঙ- এর উপর বসানো। ডানে বামে নেড়েই চলেছে।
বড়জোর কেউ বা জিজ্ঞেস করছে, কই যাইবেন? জায়গার নাম বললে ঘাড় নেড়ে বলছে, নাহ, যামু না।
এমন ভাবে বলছে যেন আপনাকে মাগনা নিয়ে যাবে।
বা গেলে আপনাকে মাগনা নিয়ে যেতো।

ত্যক্ত বিরক্ত হয়ে শেষে আপনি হয়তো উঠেই বসলেন। বললেন, ভাই, জায়গার নাম বললে কেউ যাচ্ছে না। দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে কোমর ধরে গেছে। তাই তোমার রিক্সায় একটু বসি। কোথাও যাওয়ার দরকার নেই।

অথচ একজন মহিলা এসে প্রথম খালি রিক্সাটাকে একবার বললো, পরিপাটি করে, সুরে সুরে, এই যে ভাইয়া, যাবেন? সাথে সাথে রাজি হয়ে গেলো।

মনে হলো, যাত্রাবাড়ী যেতে হলেও যেতো।

ভুলে যাওয়া বিজ্ঞাপন

December 22, 2010 by Ripon Majumder   Comments (0)

, , ,

বহুদিন আগে দেখা এক বিজ্ঞাপন। হুবহু মনে নেই। অনেকটা এরকম...

একটি বাচ্চা ছেলে টিভি দেখছে। টিভিতে দেখাচ্ছে তৃষ্ণার্ত এক কিশোর পানির ট্যাপ এর নীচে হাত পেতে রয়েছে। ফোঁটায় ফোঁটায় পানি পড়ছে যা এতোই কম যে হাতের কোশে জমছে না। ঠিক তখন টিভি দর্শকের বাবা বেসিনে মুখ ধুয়ে মাত্র সরে গিয়েছেন। কিন্তু কলটি ভালো করে বন্ধ করা হয়নি। পানি পড়ছে। টিভির রিমোট রেখে ছেলেটি দৌঁড়ে এসে কল যেই কল বন্ধ করলো, টিভিতে দেখানো ছেলেটির কলেও পানি আসলো। প্রাণ ভরে সে চুমুক দিচ্ছে।

''বুয়া, বাথরুমের কলটা ছেড়ে দাও। বালতি ভরুক। গোসল করবো।'' বলে রিমোট হাতে নিয়ে বসে গেলাম টিভি দেখতে। এক বালতি ভরে তিন বালতি যখন নষ্ট হলো তখন অন্য কেউ বাথরুমে ঢুকতে গিয়ে বললো, ''কল ছেড়েছে কে?'' তখন হুঁশ হলো।

ব্রাশ করে বেসিনে মুখ ধুতে এসে মাড়ি ম্যাসেজ করছি। জিহ্বা সাফ করছি। আয়নায় চেহারা দেখছি। চুলে আঙুল চালিয়ে ভাব নিচ্ছি। কল চলছেই ননষ্টপ।

শাওয়ার ছেড়ে দিয়ে গুনগুনিয়ে এলবামের সবগুলো গান গাওয়া শেষ হয়ে গেলেও গোসল শেষ হচ্ছে না।

ওজু করতে বসে যখন দোয়া পড়ছি তখনও এক সারিতে সবগুলো কল চলছে ননষ্টপ।

বাসায় এসে পানির ট্যাপ ছেড়ে এক ফোঁটাও পানি নেই দেখে গালি দিয়ে বলছি, ''পানিই দিতে পারে না। আবার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়বে।'' অথচ খোলা ট্যাপটি আর বন্ধ করছি না। পরে পানি এসে বাথরুম ভেসে যাচ্ছে।

এ পোষ্টটি যখন দেখছি, বাথরুমের নষ্ট কলটি দিয়ে তখন সরু ধারায় পানি পড়ছে। পড়ছে সারা বছর। কলটি বদলানোর কথা মাথায় আসছে না...

নিয়ন্ত্রণ চলছেই। কখনো টের পাচ্ছি। কখনো পাচ্ছি না

December 15, 2010 by Ripon Majumder   Comments (3)

, ,

social

এই তো কিছুদিন আগে। গরুর মাংসের দাম বাড়তে বাড়তে আকাশ ছুঁতে গিয়েছিলো। আমাদের বিশ্বাসে চিড় ধরতে লাগলো। ভাবলাম, এ নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই।

অবশেষে এলো অ্যানথ্রাক্স! দোকানে গরুর মাংস সারাদিন ঝুলে থাকতে থাকতে কালচে খয়েরী হয়ে গেলো। দাম জিজ্ঞেস করার লোকও পাওয়া গেলো না। গোমাংস- গোদুগ্ধ হয়ে গেলো নিয়ন্ত্রণ।
যদিও এ আতঙ্ক কেটে গেছে। কিন্তু পরিমাণে বেশী খেতে চাইলে এখনও কে যেন লাগাম টেনে ধরে। সাবধান! অ্যানথ্রাক্স, এখনও থাকতে পারে।

এমন হয়েছে পোলট্রি মুরগীর ক্ষেত্রে। দামের দিক থেকে দেশী মুরগীর জাতে উঠে গিয়েছিলো। কে ঠেকাবে? আসলো বার্ড ফ্লু। দু'দিনেই জাত নেমে গেলো। পোলট্রি মুরগীর মাংস খাওয়ার পরদিন এখনও যদি কোন কারণে সর্দি জ্বর হয়, ভয় ঢুকে যায়। আর খেতে ইচ্ছে করেনা।

বড়ো মাছ। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখা। কেনার সাহস নেই। একদিন ধরা পড়লো ফরমালিন। বিশাল ডাইনিং টেবিল থেকে এক ধাক্কায় নেমে গেলো ডাষ্টবিনে। সেই যে ফরমালিনের কলঙ্ক লাগলো গায়ে। আর মুছলো না।

চাউলের দামে মজুতদারেরা ভেলকি লাগিয়েছিলো। সময়টা মনে নেই। একটানা বৃষ্টিতে শুধু ঢাকাতেই হাজার হাজার বস্তা চাল গেলো পঁচে। ঘোর বর্ষায় চাল মজুদ করার আগে মজুতদারদের এখন দুবার ভাবতে হয়।

কোন এক সময় ডানো, রেডকাউ- বেবীফুড হয়ে গিয়েছিলো সোনার মতো দামী। দাম বাড়ছে তো বাড়ছেই। নিয়ন্ত্রণের কেউ নেই। কে আসবে? এসে গেলো মেলামিন। বেবীফুডের কোমরে দিলো বাড়ি। মজুতদারদের মাথায় হাত।
সেই মেলামিন আতঙ্ক কিন্তু এখনও রয়ে গেছে মায়েদের মনের এক কোণে। দিনে ৩ বার ৩ গ্লাস টিনজাত দুধ মুখের সামনে ধরতে মায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ এখনো পড়ে, বাচ্চাটার প্রস্রাব ক্লিয়ার হচ্ছে তো?

যেমন ধরুন, সোনা। যার গায়ে এখন প্রচন্ড জ্বর। ভরি ৫০ হাজার ছুঁতে যাচ্ছে।
সোনার এ জ্বর নামবে অবশ্যই।
আসবে কেউ না কেউ।
কিছু না কিছু।
হয়তো বা এলার্জির মতো।
এলার্জির ভয়ে পড়তে চাইবে না সোনা।

বড়ো আদরের

December 4, 2010 by Ripon Majumder   Comments (0)

আমার বড়ো আদরের ছোট ভাই যে ছ'মাস আগেও দেশে ছিল। কম্পিউটারকে খুব ভালোবাসতো। চমৎকার একটা চাকরী জুটিয়ে নিয়েছিলো চা বাগানে।

কাজ হলো, কোম্পানীর পিসিগুলো ল্যান করা, ল্যান ঠিকমতো কাজ করছে কিনা- দেখাশোনা করা আর চা-শ্রমিকদের মাসিক বেতন সংক্রান্ত ডাটা এন্ট্রি করা।

জয়েন করার সাথে সাথে বাংলো পেয়েছিলো। টিলার উপরে চমৎকার বাংলো। আমি গিয়ে ওর ব্যাচেলর সংসারের যা কিছু লাগে তা গুছিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। রান্না- বান্নাসহ ওর ব্যক্তিগত কাজের জন্য বাগান কর্তৃপক্ষ কয়েকজন কাজের লোকও দিয়েছিলো।

এ চাকরীর পাশাপাশি ওর ছোট-খাটো একটা ব্যবসাও ছিল। রেডিমেইড পোশাকের দোকান। যদিও মফস্বলের দোকান তবুও ওরকম একটা দোকানের আয় থেকে আস্ত একটা সংসার চালানো যায়। এছাড়া শেয়ার ব্যবসায়ও টুকটাক আনাগোনা ছিল তার। সবকিছু চলছিল ঠিকঠাক।

কিন্তু বিধি বাম!

শুনশান বাংলোতে থাকতে রাতে ভয় করে আর বেতন কম- শুধু এ দু'টো অজুহাতে একদিন হুট করে চাকরীটা ছেড়ে দিলো সে। কিছুদিন পর দোকানটাও বিক্রি করে দিলো। পজেশনসহ। বিক্রি করলো মোটরসাইকেল। শেয়ার। বললো, ষ্টুডেন্ট ভিসা পেয়েছি। লন্ডন যাবো।

অনেক বুঝালাম। প্রিয় বাংলাদেশের সাথে বৃটেনের পার্থক্য। বুঝালাম, বাংলাদেশের আজে বাজে কিছু কলেজের মতো কলেজ লন্ডনেও আছে। ষ্টুডেন্ট ভিসা দেয়াই যাদের মূল ব্যবসা। অনেক করে বুঝালাম। কিন্তু কোন কাজ হলো না।

একদিন সত্যিই সে চলে গেলো লন্ডন। বুকটা দুমড়ে মুচড়ে গেলেও আমিই এয়ারপোর্টে সি-অফ করলাম। আজ প্রায় বছর ঘুরতে চললো। প্রায় ছ'মাস সে সম্পূর্ণ বেকার ছিল। হন্যে হয়ে ঘুরেছে একটা কাজের জন্য। যে কোন কাজ। পায়নি। আধপেটা খেয়ে না খেয়ে থেকেছে।

কিছুদিন আগে একটা কাজ পেয়েছে। লন্ডন শহর থেকে বাসে করে যেতে দু'ঘন্টা লাগে। সেখানে কাজ পেয়েছে। বাসন মাজা-ধোয়ার কাজ।

কম্পিউটারের এডভান্স ইউজার ছিলো সে। আমাকে বলতো, শুধু তোমার জন্য একটা সফটওয়্যার বানাচ্ছি আমি। অনেক আগের মডেলের একটা ল্যাপি, ডেল ইন্সপায়রন না কি যেন নাম, এখনও আছে বাড়ীতে। কি যেন কি মনে করে ওটা বিক্রি করেনি সে। তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সে। বড়ো আদরের। কোনদিন নিজ হাতে থালা ধুয়ে ভাত খেতে দেখিনি।

আজ ইংরেজদের বাসন মাজছে।

এই পোষ্টটা দেয়ার একটাই উদ্দেশ্য। আমি আমার ছোট ভাইকে আটকাতে পারিনি। আপনি আপনার ভাইকে যেভাবেই হোক আটকে দিন। স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আর যেখানেই হোক, লন্ডন যেতে দিবেন না। লন্ডনের অবস্থা এখন খুবই খারাপ। ষ্টুডেন্ট ভিসাধারীদের জন্য কোন কাজ নেই।

সকালে যখন ঘর ছাড়ি তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল

November 30, 2010 by Ripon Majumder   Comments (2)

অবৈধ কিছু করে লাভ কি?- এ নিয়ে লিখে কোন লাভ নেই। বরং ক্ষতি কি- এ নিয়ে লিখি।

অবৈধ কিছু করে বাসায় ফিরে দেখলেন আপনার স্ত্রী অসুস্থ কিংবা বাচ্চা একটা দুর্ঘটনা ঘটিয়ে বসে আছে। অথবা বাসার কাছে এসে রিক্সা থেকে নামতে গিয়ে কোমরে হালকা চোট পেলেন। এ চোট এমনই চোট সারা রাতেও ব্যাথা সারলো না। অর্থোপেডিক্স চিকিৎসা চলতে থাকলো আজীবন। অথচ সকালে যখন ঘর ছাড়েন তখন সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।

যেমন ধরুন, ঘুষ। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সেই ঘুষ- যে ঘুষের সাথে ঘুষদাতার দীর্ঘশ্বাস জড়িয়ে থাকে।

এক ঘুষখোরের গলায় মাছের কাঁটা বিঁধেছিলো। শুকনো ভাত গিললো। চিঁড়া, কলা গিলে খেয়েও কাঁটা নামলো না। গলায় আঙ্গুল দিয়ে খোঁচালো। বমি করলো। কিছুতেই কিছু হলো না। রাতের মধ্যেই গলায় ব্যাথা শুরু হলো। গলা ফুলে গেলো। অবশেষে ডাক্তার। একদিকে ওষুধপত্র চলছে, অপরদিকে গলায় খোঁচাখুচি। একদিন ইনফেকশন দেখা দিলো। এমনই ইনফেকশন যে সারলো না। অপারেশন হলো। মুখ দিয়ে খাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। নলযোগে তরল খাবার চললো কিছুদিন। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ হলো। অবশেষে একদিন সব ঠিক হলো। কিন্তু হারিয়ে গেলো বাকশক্তি। এখন কথা বলতে পারেনা সে। ইশারায় কাজ চালিয়ে নিতে হয়।

এখানে একটা কথা বলে রাখি। কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে, ঘুষ শুধু সরকারী/ বেসরকারী চাকরিতেই প্রচলিত। আসলে মোটেও তা নয়। ঘুষ চলছে সমাজের প্রায় সকল ক্ষেত্রে। রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

সারা বছরেও আপনার জ্বর, জন্ডিস, টাইফয়েড, ডায়রিয়া- একবারও হচ্ছে না। অথচ আপনার সহকর্মীকে এ রোগগুলো যেন ছাড়ছেই না। আপনার বাচ্চার জ্বর, সর্দি- কাশি হলে তুলশীপাতার রস খাইয়ে দিলেই সেরে যাচ্ছে। অথচ ওর সমবয়সী অপর এক বাচ্চার ক্ষেত্রে প্রতিবারই শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞকে দেখাতে হচ্ছে। ফুল কোর্স এন্টিবায়োটিক লাগছে-

এর কোন ব্যাখ্যা আমার জানা নেই। শুধু এটুকু জানি, আল্লাহকে স্বাক্ষী রেখে আপনি নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। নিজের লাভের কথা না ভেবে উদয়াস্ত পরিশ্রম করছেন। আপনার সহকর্মী তা করছেন না। ফাঁকি দিচ্ছেন।

আপনি সোপার্জিত অর্থে বৈধভাবে অতি সাধারণ দিনাতিপাত করছেন। আপনার সহকর্মী তা করছেন না। তার ক্ষেত্রে আপনার চেয়ে কয়েকগুণ বেশী অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে এবং সেই অর্থের যোগান হচ্ছে অবৈধভাবে।

একজন প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে বলছেন, "ধরে নিন, আপনি কোন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিচ্ছেন না তাই সবাই আপনাকে সৎ বলে জানে। অথচ আইন-কানুনের ফাঁক ফোঁকড় ব্যবহার করে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে সরকারী কোষাগারের অর্থ ব্যয় করছেন দেদারসে। সারা জীবনে কোন ব্যক্তির কাছ থেকে এক কানা কড়ি ঘুষ না নিয়েও আপনি অতি ভয়ঙ্কর যে অন্যায় করছেন তা হচ্ছে, সরকারী কোষাগারের অর্থে দেশের কোটি কোটি আপামর মেহনতী মানুষের করের টাকা খাচ্ছেন। তাই মাফ চাইতে হলে কোটি কোটি মানুষের নিকট থেকে চাইতে হবে। যা অসম্ভব!"

আসুন, অবৈধ সকল কিছু নিজের জীবন থেকে পরিত্যাগ করি। আজ থেকেই শুরু হোক। একবারে না পারি। ধীরে ধীরেই হোক।

This is a test transmission -- Bangladesh Online Radio.